করোনাকালে সরকার প্রণোদনা ঘোষণা করলেও অধিকাংশ কারখানা ব্যাপক হারে কর্মী ছাঁটাই করে। তখন চাকরি হারানো কর্মীদের বড় অংশ ছিলেন নারী।
তৈরি পোশাকশিল্প কারখানার মালিক ও শ্রমিকনেতারা বলছেন, দুই বছর আগে করোনার শুরুতে বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ড ব্যাপক হারে তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ বাতিল ও স্থগিত করলে কারখানার মালিকেরা ঘাবড়ে যান। সরকার প্রণোদনা ঘোষণা করলেও অধিকাংশ কারখানাই ব্যাপক হারে কর্মী ছাঁটাই করে। তখন চাকরি হারানো কর্মীদের বড় অংশ ছিলেন নারী। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে ক্রয়াদেশ বাড়লে আবার নিয়োগ দিতে শুরু করে কারখানাগুলো। তবে অনেকেই কাজে ফিরতে পারেননি। যাঁরা ফিরেছেন, তাঁদের জীবনেও
ছন্দপতন ঘটেছে। দীর্ঘ সময় বেকার থাকায় আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেননি অনেকে।
করোনার ধাক্কা মোকাবিলায় ২০২০ সালের ২৫ মার্চ তৈরি পোশাকশিল্পসহ রপ্তানিমুখী খাতের শ্রমিকের বেতন-ভাতা দিতে সরকার পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করে। তারপরও ক্রয়াদেশ বাতিল ও স্থগিত হওয়ার জেরে এপ্রিল থেকে পোশাকশিল্পে কর্মী ছাঁটাই শুরু হয়। শ্রম মন্ত্রণালয় তখন শ্রমিক ছাঁটাই না করতে অনুরোধও করেছিল। পোশাকশিল্পের মালিকেরা প্রতিশ্রুতি দেন যে শ্রমিক ছাঁটাই হবে না। এমনকি ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের পুনর্নিয়োগ দেওয়ার আশ্বাস দেন তাঁরা। তাতে খুব একটা কাজ হয়নি। ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের মধ্যে অল্পসংখ্যককে পুনর্বহাল করা হয়।
করোনাকালে কত শ্রমিক ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন, তার সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে ২০২০ সালের অক্টোবরে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর তৎকালীন সভাপতি রুবানা হক ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ ডেভেলপমেন্টের (সিইডি) আয়োজনে এক ভার্চ্যুয়াল সভায় জানান, ১০৬ কারখানার ৭০ হাজার পোশাকশ্রমিক ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন।
অবশ্য এর আগেই দেশের শীর্ষ রপ্তানি আয়ের এই খাতে নানাবিধ কারণে নারী শ্রমিকের সংখ্যা কমছিল। অন্যদিকে পুরুষ শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ছিল।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান এশিয়ান সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্টের (এসিডি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের আগে পোশাক খাতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ কাজ করতেন। তার মধ্যে ৬৫ শতাংশ ছিলেন নারী। ২০২০ সালে নারী ও পুরুষ কর্মীর হার দাঁড়ায় যথাক্রমে ৬০ ও ৪০ শতাংশ। ২০১৫ থেকে ২০২০ পর্যন্ত প্রতিবছর পোশাক খাতের কর্মী বেড়েছে ১ শতাংশ হারে। এ সময়ে পুরুষ কর্মী ৪ শতাংশ হারে বাড়লেও নারী কর্মী কমেছে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ হারে।

