মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে চলতি বছর শুরুটা দুর্দান্ত হয়েছে বাংলাদেশের। বছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি–মে) দেশটিতে ৪১১ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছেন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা, যা দেশীয় মুদ্রায় ৩৮ হাজার ৪০৭ কোটি টাকার সমান। এই আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৯ শতাংশ বেশি।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ ৭১৪ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করে। তখন বাজার হিস্যা ছিল ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাস শেষে সেই হিস্যা বেড়ে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ হয়েছে। যদিও এই বাজারে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী চীন ও ভিয়েতনামের বাজার হিস্যা যথাক্রমে ২৩ দশমিক ৬৪ ও ১৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য মিলেছে। অটেক্সার তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দেশ থেকে ৪ হাজার ৯৩ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪০ দশমিক ১১ শতাংশ বেশি। তার মানে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে অনেক বেশি তৈরি পোশাক আমদানি করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই বাংলাদেশি পোশাকের বড় বাজার। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের পর পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বাজারটিতে রপ্তানি কমে যায়। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে ২০১৯ সালে অবস্থার পরিবর্তন হতে শুরু করে। ওই সময়ের মধ্যে কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়নেও ব্যাপক অগ্রগতি সাধনে সক্ষম হন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা। তাতে বাজারটিতে পোশাক রপ্তানি ঘুরে দাঁড়ায়। ২০১৯ সালে ৫৯৩ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়। পরের বছরও শুরুটা দুর্দান্ত হয়েছিল। তবে করোনার থাবায় রপ্তানি নিম্নমুখী হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ৫২৩ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয় ২০২০ সালে। গত বছরের মে মাস থেকে বাজারটিতে রপ্তানি আবার বাড়তে থাকে।

